ICMERE - 2011
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বর্তমান বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ ধরনের জ্বালানি শক্তি ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সমস্যা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিশ্ব গড়ে তুলতে পারে। এ জ্বালানি শক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে বাংলাদেশেও নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সৌরশক্তির কার্যকর ব্যবহার ও প্রয়োগে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকার যে ভিশন ২০২১ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার। সরকার পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এ প্রয়াস আরো বাড়ানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রী গত ২২ ডিসেম্বর ২০১১, বৃহস্পতিবার যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, আমরা একটি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এখন আরেকটি যুদ্ধে শামিল হয়ে ক্ষুধা, দারিদ্র, অশিক্ষা, দুনীতির বিরুদ্ধে জয় নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। একটি সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আত্নবিশ্বাস আছে এ ধরনের সংগ্রামে আমরা জয়ী হবো।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতকে আরো এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। চুয়েট কর্তৃপ যন্ত্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের যে উদ্যোগ নিয়ে যে আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য। আমার বিশ্বাস আছে, চুয়েটের এ সেমিনার থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসু কিছু পাওয়া যাবে। যা যন্ত্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও গবেষণায় নতুন দিক-নির্দেশনা দিতে পারে বলে আমি মনে করি।
সকালে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য International Conference on Mechanical Engineering & Renewable Energy (ICMERE) - 2011 শীর্ষক এ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েটের প্রাক্তন উপাচার্য ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসএমই) এর সভাপতি প্রফেসর ড. এম এইচ খান। সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শ্যামল কান্তি বিশ্বাস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ চুয়েট অডিটোরিয়াম সংলগ্ন এলাকায় রোবট দৌড় ও সাইন্স ফেয়ারের উদ্বোধন করেন। তিনি ব্যতিক্রমধর্মী রোবট দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য চুয়েট কর্তৃপ ও গবেষকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাইন্স ফেয়ারের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে মাননীয় মন্ত্রী প্রতিভাবান ছাত্রদের এ বিষয়ে মেধা ও মনন বিকাশের প্রয়াস অব্যাহত রাখার জন্য বলেন।
তিনদিনব্যাপী সেমিনারে যন্ত্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি শিক্ষা-গবেষণায় আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির বিষয়ে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিকগণ তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, বৈশ্বিক নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োজন। নতুন প্রযুক্তি মানেই সব সমস্যার সমাধান নয়। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপদ সারা বিশ্বেই বিদ্যমান। বিশ্বের সেরা ধনী রাষ্ট্রও প্রাকৃতিক বিপদের কাছে অসহায় হয়ে পড়তে আমরা দেখেছি। তৃতীয় বিশ্বেও দেশগুলোতে আরো বেশি বিপর্যসত্দ। এখন সময়োপযোগী প্রাযুক্তিক ব্যবস্থা গড়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তির নিরনত্দর ও কার্যকর গবেষণার মাধ্যমে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি গত ২৪ ডিসেম্বর, শনিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর যন্ত্রকৌশল বিভাগ আয়োজিত তিনদিনব্যপী International Conference on Mechanical Engineering & Renewable Energy (ICMERE) - 2011 শীর্ষক কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদস্থ হোটেল এম্ব্রোশিয়ায় কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠান হয়।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শ্যামল কানত্দি বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন কনফারেন্স আয়োজন কমিটির সভাপতি ও চুয়েটের যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো: তাজুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন জাপানের অনারারি কনসাল নুরম্নল ইসলাম, ওয়াশিংটনের পাদর্ু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নিয়াজ লতিফ, কনফারেন্সের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সদরুল ইসলাম প্রমুখ।
ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, সিডর , আইলা প্রভৃতি আমাদেও মত উন্নয়নশীল দেশে নিত্য হানা দিচ্ছে। আমাদেরকে এখন এর বিপরীতে টেকসই প্রযুক্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি আনন্দিত যে চুয়েটে এ ধরনের প্রযুক্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করেছে। আমি মনে করি, এ ধরনের নতুন ও টেকসই প্রযুক্তি কেবল চুয়েট নয় সারাবিশ্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
Details